প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং
রৌমারী সীমান্তের কাঁটাতার ও এক নিষ্পাপ শিশুর অবরুদ্ধ শৈশব

রৌমারী সীমান্তের কাঁটাতার ও এক নিষ্পাপ শিশুর অবরুদ্ধ শৈশব
কেএম জাকির,
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি,
যেখানে প্রতিটি সেকেন্ড বেঁচে থাকার লড়াই, সেখানে মানবাধিকারের বড় বড় বাণীগুলো শূন্য রেখায় এসে মুখ থুবড়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় সীমানা, কাঁটাতারের বেড়া আর আইনি জটিলতার ঊর্ধ্বে যে মানুষের জীবন—এই ধ্রুব সত্যটি আমরা বারবার ভুলে যাই। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো শিশুই কোনো ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির বলি হতে পারে না। এই সংকট কেবল দুটি দেশের সীমান্ত ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি আমাদের সম্মিলিত মানবিক মূল্যবোধ ও বিবেকের কাছে এক মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন। আজ যদি আমরা একটি শিশুর মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি, তবে বিশ্বমঞ্চে মানবাধিকারের যেকোনো স্লোগানই অর্থহীন ও কপট শোনায়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এখনই সময় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার।
গতকাল সকাল ৬টা ৪০ মিনিট। রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্তের ১০৬০/১-এস নম্বর পিলারের শূন্য রেখা। ঠিক এই বিন্দুটিতে এসে থমকে গেছে মানবতার সমস্ত ব্যাকরণ। ভারত থেকে পুশইনের শিকার হয়ে একটি পরিবার, যার মধ্যে রয়েছে এক নিষ্পাপ শিশু, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তাদের নেই মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, নেই পেটের ক্ষুধা মেটানোর নিশ্চয়তা, নেই এক ফোঁটা বিশুদ্ধ পানি কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। চারপাশে শুধুই অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক আর অজানা ভবিষ্যতের এক দীর্ঘ কালো ছায়া। এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের অসহায়ত্বের প্রতিচ্ছবি নয়; এটি আসলে আমাদের আধুনিক সভ্যতার বুক চিরে বেরিয়ে আসা এক চরম উপহাস। একটি শিশুর অপরাধ কী? জন্মের পর থেকে যে পৃথিবীর আলো-বাতাস সে দেখছে, সেখানে তার একমাত্র অধিকার হওয়ার কথা ছিল সুরক্ষা, ভালোবাসা, শিক্ষা আর মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা। অথচ বাস্তবতার নির্মম পরিহাসে, রাজনীতির মারপ্যাঁচে আর সীমান্তের কড়া পাহারার মাঝে সেই নিষ্পাপ শৈশব আজ অবরুদ্ধ। ক্ষুধার্ত চোখে সে হয়তো চারপাশের এই অচেনা আতঙ্ক বোঝার চেষ্টা করছে, কিন্তু তার এই ভাষা বোঝার মতো সংবেদনশীলতা কি আজ আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আছে? সীমান্তের এই উত্তেজনাপূর্ণ ও থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে পরিবারটির প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে চরম আতঙ্কে।
আইনি বা কূটনৈতিক জটিলতা যা-ই থাকুক না কেন, সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ওই অবুজ শিশু এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা। জরুরি ভিত্তিতে তাদের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। কোনো শিশুই যেন সীমান্ত পরিস্থিতির নির্মম শিকার না হয়, কোনো শৈশব যেন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার কাঁটাতারে ঝুলে না থাকে—এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত ও জোরালো প্রত্যাশা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শিশু অধিকার সনদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, এই সংকটের একটি দ্রুত এবং স্থায়ী মানবিক সমাধান আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কামনা করছি। পৃথিবীটা শিশুদের জন্য নিরাপদ হোক, সীমান্ত যেন কেড়ে না নেয় তাদের হাসিমুখ।
আজ রোজ মঙ্গলবার ১৬-জুন ২০২৬।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪